লিওনেল মেসি


লিওনেল
মেসি

জন্ম             :  ২৭ জুন ১৯৮৭ রোজারিও, সান্তা ফে, আর্জেন্টিনা

জাতীয়তা       :  আর্জেন্টিনীয়

পেশা             :  ফুটবলার

বাসস্থান          :  বার্সেলোনা, কাতালোনিয়া, স্পেন

দাম্পত্যসঙ্গী   :  আন্তোনেল্লারক্কুজ্জো

সন্তান            :  থিয়াগোমেসি,মাতেও মেসি,সিরো মেসি

পিতা-মাতা     :  হোর্হেওরাসিও মেসি (বাবা), সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি (মা)

প্রারম্ভিক জীবন

মেসিআর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করেন তারবাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি ছিলেন একজন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মীতারপৈতৃক পরিবারের আদি নিবাস ছিল ইতালির আকোনা শহরে তারপূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেনমেসিরবড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছে বড়দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সলপাঁচবছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন, যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে] ১৯৯৫খ্রিষ্টাব্দে মেসি রোজারিও ভিত্তিক ক্লাব নিওয়েল' ওল্ড বয়েজে যোগ দেনতিনিএকটি স্থানীয় যুব পরাশক্তির অংশ হয়ে পড়েন, যারা পরবর্তী চার বছরে একটি মাত্র খেলায় পরাজিত হয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবেদ্য মেশিন অফ৮৭” (The machine of '87) নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল তাদেরকেএই নামে অভিহিত করার কারণ তাদের জন্ম সাল ছিল ১৯৮৭১১বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (growth hormone) সমস্যা ধরা পড়েস্থানীয়ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার[বার্সেলোনারতৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাস মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন তিনিমেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন হাতেরকাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেনবার্সেলোনামেসির চিকিত্সার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হয় এরপরমেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান সেখানেমেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া' সভ্য করে নেয়া হয়২০০৮সাল থেকে মেসি আন্তনেলা রোকুজ্জোর সাথে বসবাস শুরু করেন তাদেরদুটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, নভেম্বর ২০১২ তারিখে থিয়াগোর আর ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে জন্ম নেয় মাতেও ২০১৭সালের জুলাই মহা ধুমধামে তাদের বিবাহ হয়


Kg©Rxeb

মেসি একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় যিনি স্পেনের সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার ফুটবল প্রতিযোগিতা লা লিগা তে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেনতিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং বার্সেলোনার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট ছয়বার বালোঁ দর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চএর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় গোল্ডেন শু জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেনতাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়, যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চএছাড়াও একজন অসাধারণ গোলদাতা হিসেবে মেসির দখলে রয়েছে লা লিগায় সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল (৪৪০), লা লিগা ইউরোপের যেকোনো লীগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৫০), ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৭৩), এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোল (৯১), এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল (২৬) এবং লা লিগা (৩৪) চ্যাম্পিয়নস লীগে () সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের কৃতিত্বপাশাপাশি মেসি একজন সৃষ্টিশীল প্লেমেকার হিসেবেও পরিচিততিনি লা লিগা (১৮৩) এবং কোপা আমেরিকার (১২) ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর কৃতিত্বেরও মালিকজাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে তিনি ৭০০ এর অধিক পেশাদার গোল করেছেন

মধ্য আর্জেন্টিনায় জন্ম এবং বেড়ে ওঠা মেসি ছোট বেলায় গ্রোথ হরমোন সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হনসেসময় আর্জেন্টিনার কোন ক্লাবের পক্ষে তাঁর চিকিৎসা খরচ বহন করা সম্ভব ছিল নাকিন্তু বার্সেলোনা তাঁর চিকিৎসার খরচ বহনের দায়িত্ব নেয়ায় ১৩ বছর বয়সে তিনি তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং স্পেনে পাড়ি জমানবার্সেলোনার যুব প্রকল্পে তিনি নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেখাতে শুরু করেন এবং ২০০৪ সালের অক্টোবরে ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে তাঁর অভিষেক হয়পেশাদার ফুটবল জীবনের শুরুতে ইনজুরি-প্রবণ হলেও, ২০০৭ সাল নাগাদ তিনি নিজেকে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেনতিনি ২০০৭ সালের বালোঁ দর পুরস্কারে তৃতীয় ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেনপরবর্তী বছর তিনি উভয় পুরস্কারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এবং এর পরের বছর তিনি প্রথমবারের মত উভয় পুরস্কার জয় করেন২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি বার্সেলোনার মূল দলের একজন নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হনসে মৌসুমেই তিনি বার্সেলোনাকে প্রথমবারের মত এবং প্রথম স্পেনীয় ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জয়ে সাহায্য করেন


মেসির সেরা মৌসুম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পরিসংখ্যানগত দিক দিয়ে তাঁর সেরা মৌসুম ছিল ২০১১-১২সেই মৌসুমে তিনি লা লিগা এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেনতাঁর প্রতিভার আরেকটি ঝলক দেখা যায় ২০১৪-১৫ মৌসুেম, যখন তিনি লা লিগা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং বার্সেলোনাকে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় ট্রেবল জয়ে সাহায্য করেন২০১৮ সালের আগস্টে মেসি বার্সেলোনার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন

মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাবয়সভিত্তিক পর্যায়ে তিনি আর্জেনটিনাকে ২০০৫ ফিফা ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে সাহায্য করেন যে প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেনএছাড়া তিনি ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে ফুটবলে স্বর্ণপদক জয় করেন২০০৫ সালের অগাস্টে তার আর্জেন্টিনা জাতীয় দল তার অভিষেক হয়২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ গোল করার মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন২০০৭ কোপা আমেরিকায় তিনি সেরা যুব খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেনওই আসরে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে২০১১ সালের আগস্টে তিনি আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কে হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেনঅধিনায়ক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে টানা তিনটি প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলেছেন: ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকাতিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল পুরস্কার জয় করেন২০১৮ সালে মেসি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তবে কয়েক মাস পরেই

তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে পুনরায় জাতীয় দলে ফিরে আসেন এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলায় তিন গোল করে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন২০১৮ বিশ্বকাপ ২০১৯ কোপা আমেরিকায় তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন

খেলার ধরন

একইখেলার ধরন দৈহিক উচ্চতার কারণে মেসিকে প্রায়ই তার স্বদেশি দিয়েগো ম্যারাডোনা' সাথে তুলনা করা হয়মেসিঅন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় অধিক ক্ষিপ্র এবং তিনি অতি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেন এছাড়াওতিনি কৌশলে ট্যাকল এড়িয়ে যেতে পারেনতারছোট শক্তিশালী পায়ের কারণে অতি অল্প সময়ে তিনি অধিক গতি অর্জন করতে পারেন তারদ্রুতগতির পা তাকে গতিশীল অবস্থায়ও ড্রিবলিং করার সক্ষমতা প্রদান করেপ্রাক্তনবার্সেলোনা ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘‘মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যে বল ছাড়া যত দ্রুত দৌড়াতে পারে, বলসহ তার চেয়েও বেশি দ্রুত দৌড়াতে পারে’’ম্যারাডোনার­ মত মেসিও একজন বাম পায়ের খেলোয়াড়বলকাটাতে এবং দৌড়াতে তিনি সাধারণত তাঁর বাম পায়ের বহির্দেশ ব্যবহার করে থাকেন সতীর্থদেরসহায়তা করতে 'পাস' দিতে এবং ফিনিশিং- তিনি সাধারণত তার বাম পায়ের ভেতরের অংশ ব্যবহার করেন

মেসিকেপ্রায়ই গোলপোস্টের দিকে বল নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায় রক্ষণভাগেরখেলোয়াড়দের কাটিয়ে আক্রমণ করতে তিনি সমর্থও হন তাঁকেমধ্য মাঠের দাগ থেকে অথবা মাঠের ডান পার্শ্ব দিয়ে আক্রমণ করতে বেশি দেখা যায় মেসিকেবহুমুখী খেলোয়াড়ও বলা হয়ে থাকে জাভি ইনিয়েস্তার সাথে পাসিং সৃজনশীলতায় তার চমত্কার সমন্বয় রয়েছেএছাড়াতিনি নির্ভুলভাবে সেট-পিস্ পেনাল্টি কিকও নিতে পারেনমেসিরবল কাটানোর সক্ষমতা প্রসঙ্গে ম্যারাডোনা বলেন, ‘‘বল তার পায়ের সাথে আঠারোো মত লেগে থাকে আমিআমার খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক কিংবদন্তিকে দেখেছি, কিন্তু মেসির মত বল নিয়ন্ত্রণ করতে কাউকে দেখিনি’’ম্যারাডোনাআরও বলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন মেসিই বর্তমানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়


কৌশলগতভাবেমেসি দলের আক্রমণভাগে খেলে থাকেন, তবে কখনও কখনও তিনি প্লেমেকারের দায়িত্বও পালন করেনমেসিউইং বা মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করতে পছন্দ করেন তিনিবাম-উইঙ্গার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন প্রাক্তনবার্সেলোনা ম্যানেজার ফ্রাংক রাইকার্ড তাকে ডান-উইংয়ে নিয়ে যান তিনিভেবেছিলেন, এই অবস্থানে থেকে মেসি আরও সহজে বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগ ভেদ করে মধ্য মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন এবং বাম পা দিয়ে গোলপোস্টে বাঁকানো শট নিতে পারবেনগার্দিওলারঅধীনে মেসি ফলস- অবস্থানে খেলেছিলেন যামেসির প্রবৃত্তির সাথে মিলে গিয়েছিলআপাতদৃষ্টিতে, মেসি একজন ফরোয়ার্ড বা লোন স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও তিনি কখনও কখনও রক্ষণভাগ পর্যন্ত চলে যান অন্যান্যফরোয়ার্ড , উইঙ্গার আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের সহায়তা করার জন্য বা আক্রমণাত্মক দৌড় শুরু করার জন্য তিনি কাজ করে থাকেনআর্জেন্টিনাজাতীয় দলে মেসি সাধারণত ফ্রন্ট লাইনের যেকোন অবস্থানে খেলে থাকেন ফরোয়ার্ডবা উইঙ্গার হিসেবে শুরু করলেও তিনি মাঠের অন্যান্য অবস্থানেও খেলেন ম্যারাডোনারঅধীনে তিনি মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা প্লেমেকার হিসেবে খেলেছিলেনমেসিপ্রকাশ করেন যে তিনি সাবেক আর্জেন্টাইন প্লেমেকার পাবলো আইমারের ভক্ত

দানশীলতv

২০০৭সালে, মেসি প্রতিষ্ঠা করেন ‘‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন’’ এইসংস্থা সুরক্ষিত নয় এমন শিশুদের শিক্ষা স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখেশৈশবেমেসিরও শারীরিক সমস্যা ছিল, তাই এই সংস্থা আর্জেন্টিনার রোগাক্রান্ত শিশুদের স্পেনে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করে এবং যাতায়াত, চিকিত্সা অন্যান্য ব্যয় বহন করে এইসংস্থার জন্য মেসি নিজে চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন এছাড়াওহার্বালাইফ নামক একটি বহুমুখী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান লিও মেসি ফাউন্ডেশনের সহায়তা করে থাকে

২০১০সালের ১১ মার্চ, মেসিকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ঘোষণা করা হয়শুভেচ্ছাদূত হিসেবে মেসির লক্ষ্য, শিশুদের অধিকার রক্ষা এক্ষেত্রেমেসিকে সহায়তা করে থাকে তার নিজের ক্লাব বার্সেলোনা­ বার্সেলোনাওইউনিসেফের সাথে নানাবিধ কর্মকাণ্ডে জড়িত] এছাড়ামেসি তার সাবেক ক্লাব নিওয়েল' ওল্ড বয়েজের স্টেডিয়ামের ভেতরে ক্লাবের যুব প্রকল্পের জন্য একটি শয়নাগার তৈরিতে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করেন, এমনকি একটি নতুন ব্যায়ামাগারও তৈরি করে দেন এতেকরে লিওয়েল-এর সাথে মেসির বন্ধন আরও দৃঢ় হয় তারামেসির সন্তান থিয়াগোকে একটি বিশেষ সদস্যপত্র দেওয়ার পরিকল্পনাও করেন

২০১৩সালের মার্চে, মেসি তার জন্মভূমি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে একটি শিশু হাসপাতালে ৬০০,০০০ ইউরো অনুদান প্রদান করেন এইঅর্থ ব্যয় হয় ভিক্টর জে ভিলেলার শিশু হাসপাতালের অনকোলজি ইউনিটের পুনঃসংস্কারের কাজে সেইসাথে, ডাক্তারদের প্রশিক্ষণের জন্য বার্সেলোনায় ভ্রমণের জন্যেও এই অর্থ ব্যয় করা হয়

সম্পত্তি

২০১০সালের মার্চে, ফুটবল ভিত্তিক ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারদের তালিকায় মেসিকে শীর্ষস্থানে রাখে ২৯. মিলিয়ন পাউন্ড (৩৩ মিলিয়ন ইউরো) বার্ষিক আয় নিয়ে ডেভিড বেকহ্যাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল করেন বেতন, বোনাস মাঠের বাইরের বিভিন্ন মাধ্যম হতে তিনি এই অর্থ আয় করে থাকেনতারসর্বমোট সম্পত্তি হিসাব করা হয়েছে ১১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার২০১৪সালের মে মাসে, ফোর্বস কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক প্রাপ্ত খেলোয়াড়দের তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেছনে থেকে দ্বিতীয় হন মেসি বিগত১২ মাসে তার মোট আয় ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার


সম্মাননা

বার্সেলোনা

·         লালিগা (): ২০০৪০৫, ২০০৫০৬, ২০০৮০৯, ২০০৯১০, ২০১০১১, ২০১২১৩, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৭-১৮

·         কোপাদেল রে (): ২০০৮০৯, ২০১১১২, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮; রানার-আপ ২০১০১১, ২০১৩-১৪

·         স্পেনীয়সুপার কাপ (): ২০০৫, ২০০৬, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১৩, ২০১৬, ২০১৮; রানার-আপ ২০১২, ২০১৫

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লিগ (): ২০০৫০৬, ২০০৮০৯, ২০১০১১, ২০১৪-১৫

·         উয়েফাসুপার কাপ (): ২০০৯, ২০১১, ২০১৫; রানার-আপ ২০০৬

·         ফিফাক্লাব বিশ্বকাপ (): ২০০৯, ২০১১, ২০১৫


আর্জেন্টিনা

·         অলিম্পিকস্বর্ণপদক: ২০০৮

·         ফিফাঅনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ: ২০০৫

·         ফিফাবিশ্বকাপ: ২০০৬,২০১০,২০১৪,২০১৮তে

চ্যাম্পিয়ন(অংশগ্রহ)

রানার-আপ:

·         ফিফাবিশ্বকাপ: ২০১৪

·         কোপাআমেরিকা: ২০০৭

·         কোপাআমেরিকা: ২০১৫

·         কোপাআমেরিকা: ২০১৬

তৃতীয়অবস্থান:২০২০

·         দক্ষিণআমেরিকান যুব চ্যাম্পিয়নশীপ: ২০০৫

একক

·         ২০১৪ফিফা বিশ্বকাপ সেরা খেলোয়াড়

·         ফিফাব্যালন ডি অর (): ২০০৯,২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯

·         ব্যালনডি অর (): ২০০৯

·         ফিফাবর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৯

·         ইউরোপীয়ানগোল্ডেন শু (): ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৭, ২০১৮

·         উয়েফাইউরোপের সেরা খেলোয়াড় (): ২০১১, ২০১৫

·         উয়েফাবর্ষসেরা ক্লাব ফুটবলার (): ২০০৯

·         লালিগা বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৫


·         লালিগা মৌসুমসেরা দল: ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬

·         উয়েফালা লিগা মৌসুমসেরা দল: ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭

·         লালিগা বিদেশি বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৭, ২০০৯, ২০১০

·         লালিগা আইবেরো-আমেরিকান বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৭, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২

·         কোপাআমেরিকা সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় (): ২০১৫

·         কোপাআমেরিকা সেরা একাদশ (): ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৬

·         ফিফাক্লাব বিশ্বকাপ স্বর্ণ গোলক (): ২০০৯, ২০১১

·         ফিফাক্লাব বিশ্বকাপ রৌপ্য গোলক (): ২০১৫

·         ওয়ার্ল্ডসকার যুব বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮

·         ওয়ার্ল্ডসকার বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৯, ২০১১, ২০১২

·         ওয়ার্ল্ডসকার সর্বকালের সেরা একাদশ (): ২০১৩

·         ওঞ্জদিঅর (): ২০০৯, ২০১১, ২০১২, ২০১৮ ২০১০সালে কোন বিজয়ী ছিলনা

·         আইএফএফএইচএসবিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা (): ২০১১, ২০১২

·         আইএফএফএইচএসশীর্ষ বিভাগের সেরা গোলদাতা (): ২০১২

·         আইএফএফএইচএসবিশ্বসেরা প্লেমেকার (): ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭

·         গোলডট কম বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৯, ২০১১, ২০১৩

·         এলপেইস কিং অব ইউরোপীয়ান সকার (): ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২


·         ইএসপিওয়াইসেরা আন্তর্জাতিক এথলেট (): ২০১২

·         উয়েফাবর্ষসেরা দল (): ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লীগ সর্বোচ্চ গোলদাতা (): ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লীগ বর্ষসেরা ফরোয়ার্ড (): ২০০৯ ২০১০সাল থেকে নিবৃত

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল ম্যান অব দ্য ম্যাচ (): ২০১১

·         এলইকুইপে চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়নস (): ২০১১

·         ফিফাঅনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগীতার সেরা খেলোয়াড় (): ২০০৫

·         ফিফাঅনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ গোলদাতা (): ২০০৫

·         ফিফাক্লাব বিশ্বকাপ স্বর্ণ গোলক (): ২০০৯, ২০১১

·         ফিফা/ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশ (১১): ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭

·         ফিফপ্রোযুব বর্ষসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮

·         ইএসএমবর্ষসেরা দল (): ২০০৬, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩

·         পিচিচিট্রফি (): ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৭

·         কোপাদেল রে শীর্ষ গোলদাতা (): ২০১০১১

·         এলএফপিসেরা খেলোয়াড় (): ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩

·         এলএফপিসেরা ফরোয়ার্ড (): ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩


·         মার্কালেইন্দা (): ২০০৯

·         ব্রাভোএওয়ার্ড (): ২০০৭

·         কোপাআমেরিকা প্রতিযোগীতার যুব সেরা খেলোয়াড় (): ২০০৭

·         কোপাআমেরিকা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানকারী (): ২০১১

·         গোল্ডেনবয় (): ২০০৫

·         অলিম্পিয়াদি অরো (): ২০১১

·         অলিম্পিয়াদি প্লাতা (১১): ২০০৫, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭

রেকর্ডসমূহ

বিশ্ব

·         সবোচ্চফিফা ব্যালন ডি অর পুরস্কার: 6 (২০০৯-১২, ২০১৫, 2019)(ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাথে ভাগাভাগি করে)

·         একবছরে সর্বোচ্চ গোলের জন্য গিনেস বিশ্ব রেকর্ড পুরস্কার: ৯১ গোল (২০১২ সালে)

·         একবছরে সব ক্লাব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৭৯ গোল (২০১২ সালে)

·         একমৌসুমে সব ক্লাব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৭৩ গোল (২০১১-১২ মৌসুমে)

·         ঘরোয়ালিগে টানা সর্বোচ্চ খেলায় গোল: ২১ ম্যাচে ৩৩ গোল (২০১১-১২ মৌসুমে)

·         ফিফাফিফপ্রো বিশ্ব একাদশে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি: ১১ বার (২০০৭-২০১৭) (ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাথে ভাগাভাগি করে)


মহাদেশীয়

·         সর্বোচ্চইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু: 6

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লীগে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিক: ৭টি হ্যাট্রিক(ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাথে যৌথভাবে)

·         ইউরোপীয়ানকাপের এক খেলায় সর্বোচ্চ গোলদাতা: গোল (অন্য তের জন খেলোয়াড়ের সাথে যৌথভাবে)

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লীগের গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ গোল: ৬০ গোল (ক্রিস্তিয়ানোরোনালদোর সাথে যৌথভাবে)

·         উয়েফাসুপার কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা: গোল (অন্য সাত জনের সাথে সাথে যৌথভাবে)

·         সর্বকনিষ্ঠখেলোয়াড় হিসেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ উপস্থিতি: ২৮ বছর ৮৪ দিন (২০১৫ সালে)

·         কোপাআমেরিকার সর্বোচ্চ সহায়তাকারী: ১১ সহায়তা

·         কনমেবলঅঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা: ২১ গোল (লুইস সুয়ারেজের সাথে যৌথভাবে)

আর্জেন্টিনা

·         আর্জেন্টিনারসর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: ৬১ গোল

·         একপঞ্জিকাবর্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১২ গোল (২০১২ সালে) (গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার সাথে যৌথভাবে)

·         একমাত্রআর্জেন্টাইন হিসেবে সকল কনমেবল দলের বিরুদ্ধে গোল

·         আর্জেন্টিনারহয়ে বিশ্বকাপ খেলা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়: ১৮ বছর ৩৫৭ দিন (২০০৬ বিশ্বকাপে)

·         সর্বকনিষ্ঠখেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে গোল : ১৮ বছর ৩৫৭ দিন (২০০৬ বিশ্বকাপে)

·         সর্বকনিষ্ঠখেলোয়াড় হিসেবে কনমেবল অঞ্চলে জাতীয় দলের হয়ে ১০০ উপস্থিতি: ২৭ বছর ৩৬১ দিন (২০১৫ সালে)

·         সর্বাধিকআর্জেন্টিনার সেরা ফুটবলারের পুরস্কার: ১১ বার (২০০৫, ২০০৭-১৩, ২০১৫-১৭)


স্পেন

·         সর্বাধিকলা লিগা সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার: (২০০৯-১৩, ২০১৫)

·         লালিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা: ৩৮৫ গোল

·         লালিগার সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারী: ১৪৯ সহায়তা

·         স্পেনীয়সুপার কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১৩ গোল

·         লালিগায়এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল: ৫০ গোল (২০১১-১২ মৌসুমে)

·         লালিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক: ৮টি (২০১১-১২ মৌসুমে) (ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাথে যৌথভাবে)

·         প্রথমখেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় ৩০০ গোল

·         একমাত্রখেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় ৩৫০ গোল

·         লালিগার ইতিহাসে সর্বাধিক দলের বিরুদ্ধে গোল: ৩৬

বার্সেলোনা

·         বার্সেলোনাডার্বিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা: ২১ গোল

·         এলক্লাসিকোতে সর্বোচ্চ গোলদাতা: ২৬ গোল

·         অ্যাথলেটিক-বার্সেলোনা ক্লাসিকোতে সর্বোচ্চ গোলদাতা: ২৪ গোল

·         প্রতিযোগিতামূলকম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতা: ৫৫২ গোল

·         প্রীতিম্যাচ সহ সর্বোচ্চ গোলদাতা: ৫৮৬ গোল

·         উয়েফাচ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১০০ গোল

·         ইউরোপীয়প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১০৩ গোল

·         আন্তর্জাতিকপ্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১০৮ গোল

·         লালিগায় সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক: ৩০টি

·         সবপ্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিক: ৪১টি

·         সর্বাধিকপ্রতিযোগিতামূলক ট্রফি জয়: ৩৩টি

 

 

 

Post a Comment

Previous Post Next Post