কিটো ডায়েটের ভালো–মন্দ
এখনকার ডায়েট ট্রেন্ডে সবচেয়ে আলোচিত কিটো ডায়েট। ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তে চিনির মাত্রা কমানোয় কার্যকর এ ডায়েট। এ জন্য ডায়াবেটিস রোগীরা ঝুঁকছেন এর দিকে। কিটো ডায়েট কী এবং ডায়াবেটিস রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইজোরাল মাপস স্বাস্থ্য আলাপন’-এর পঞ্চম পর্বে।
ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ।
অনুষ্ঠানটি ২৭ নভেম্বর প্রথম আলো ও এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কিটো ডায়েটের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১৯১১ সালের মৃগী বা খিঁচুনি রোগের চিকিৎসার জন্য ভালো কোনো ওষুধ ছিল না। তখন চিকিৎসকেরা কিটো ডায়েট দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করতেন। তখন রোগীদের না খাইয়ে রাখা হতো, এতে শরীরে কিটোনবডি গঠিত হতো। এতে এপিলেপসি কমে যেত।
![]() |
This Post all Credited by :www.prothomalo.com
১৯৩৪ সালে প্রথম এপিলেপসির ওষুধ ফেনাবারবিটাল আবিষ্কারের পর থেকে এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে থাকে। এরপর আবার ১৯৯৪ সালে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও এ রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তখন আবার কিটো ডায়েটের আবির্ভাব হয়। এ সময় দেখা গেল এই ডায়েটের ফলে রোগীর ওজন কমতে দেখা যাচ্ছে। তবে এখন সব দেশেই এই ডায়েটের সঠিক ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকে কিটো ডায়েটের দীর্ঘকালীন প্রভাব এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে না জেনে এটি অনুসরণ করছে। এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হচ্ছে।
কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ১০ শতাংশ, ফ্যাট ৭০ শতাংশ এবং প্রোটিন ২০ শতাংশ। কিন্তু একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটে ফ্যাটের পরিমাণ ২০ শতাংশ আর ৭০ শতাংশ ফাইবার থাকতে হয়। কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে আনার ফলে শরীরের মেটাবলিজম কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাটের মেটাবলিজমে পরিণত হয়। এতে শরীরে একটি অ্যাসিড তৈরি হয়, যাকে কিটো অ্যাসিড বলে। এটি শরীরের বিভিন্ন বিপাকক্রিয়ায় দীর্ঘকালীন বা স্বল্পকালীন প্রভাব ফেলে।
![]() |


إرسال تعليق